পক্ষাঘাত একটি স্নায়বিক রোগ। দেহের বিভিন্ন যন্ত্র ও তন্ত্রের মধ্যে যোগাযোগ রক্ষাকারী স্নায়ু কোনো কারণে আহত বা ছিন্ন হলে পক্ষাঘাত রোগ দেখা দেয়।

এই রোগে দেহের কোনো একটি অঙ্গ বা একাধিক অঙ্গ আক্রান্ত হতে পারে। এই রোগ নিরাময়ের জন্য রোগীদের অবশ্য করণীয় কয়েকটি পদ্ধতি নিম্নে দেওয়া হলো-

১. কোষ্ঠ-সাফ: রোগীর কোষ্ঠ যাতে পরিষ্কার থাকে, সে দিকে সতর্ক দৃষ্টি রাখতে হবে। রোগী সক্ষম হলে সকালে ও বিকালে সহজ বস্তিক্রিয়া অভ্যাস করবেন। সক্ষম না হলে ত্রিফলার পানি পান করে বা অন্য কোনো জোলাপ নিয়ে কোষ্ঠ পরিষ্কার রাখবেন।


২. মালিশ ও গরম পানিতে গোসল: রোগীকে নিয়মিত সরিষার তৈল দিয়ে রোগাক্রান্ত অঙ্গ রোজ ১৫/২০ মিনিট মালিশ করা প্রয়োজন (বিজ্ঞানসম্মত মালিশ হলে ভাল হয়)। মালিশ করার ৫/১০ মিনিট পরে রোগীকে সহনশীল গরম পানিতে গোসল করানো আবশ্যক।


৩. ব্যায়াম: রোগী ভ্রমণে সক্ষম হলে সকালে ও বিকালে ভ্রমণ প্রাণায়াম অভ্যাস করবেন। সামর্থ্য বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে সবচেয়ে সহজ ৫/৬টি খালি হাতে ব্যায়াম অভ্যাস করবেন। তারপর ২/৩ মিনিট শবাসন করবেন।


তারপর সবচেয়ে সহজ ৫/৬টি আসন অভ্যাস করবেন।এরপর আবার ৫ মিনিট শবাসন করে ব্যায়াম শেষ করতে হবে।


৪. পথ্য: রোগীর অম্লধর্মী ও আমিষজাতীয় খাদ্য, যথা—বড় মাছ, মাংস, ডিম, ঘি, মাখন, তেল ইত্যাদি খাওয়া নিষেধ। ছোট মাছ, শাকসবজি, দুধ, ঘোল, টক-মিষ্টি ফল, অল্পমাত্রায় ভাত ও রুটি খাওয়া রোগীর জন্য ভালো।


সতর্কতা


যাদের হৃদরোগ আছে বা উচ্চ রক্তচাপের রোগী যারা তাদের জন্য মাথা নিচু করে যেসব আসন করতে হয় সেগুলো করা নিষেধ।


সেক্ষেত্রে ব্যায়াম অভ্যাসকারীর জন্য (১ ) শীর্ষাসন, (২) শশাংগাসন, (৩) পদহস্তাসন, (৪) হলাসন,(৫) উড্ডীয়ান, (৬) ময়ূরাসন, (৭) বিপরীতকরণী মুদ্রা ও (৮) মৎস্যাসন অভ্যাস করা সম্পূর্ণ নিষেধ।


উপসংহার

 

এ যুগে মানুষের রোগের শেষ নাই। তাই নিজ নিজ সমস্যা অনুযায়ী ৫/৬টি খালি হাতে ব্যায়াম অভ্যাস করুন। 

 

তারপর প্রয়োজন মতো ৫/৬টি আসন নির্বাচন করুন। সেই অনুযায়ী অভ্যাস করুন। 

 

এরপর সমস্যা অনুযায়ী মুদ্রাও অভ্যাস করতে পারেন। কিছু রোগে এটি প্রয়োজনীয়।

  

সবশেষে প্রয়োজন হলে প্রাণায়াম নির্বাচন করে অভ্যাস করুন।  

 

সর্বোপরি, অসুস্থদের যোগব্যায়ামের নিয়মকানুন ভালভাবে পড়ে নেবেন। সুস্থদের যোগব্যায়ামের নিয়মকানুনও  জেনে রাখুন। 

 

এছাড়া কেন যোগব্যায়াম করবেন সেটি দেখে নিন। দ্রুত ফল পাবেন। 

 

যোগব্যায়ামকারীর খাদ্য সম্পর্কে জানুন এবং যোগব্যায়ামকারীদের অবশ্যই যে বিষয়গুলো জানা দরকার সেগুলো ভালো করে পড়ে নিন।